ব্যালন ডি’অর শর্টলিস্টে নেই মেসি-রোনালদো

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি— ফ্রান্স আয়োজিত বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচনের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর–এর এবারের শর্টলিস্টে জায়গা পাননি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি শিরোপাজয়ী এই দুই কিংবদন্তির অনুপস্থিতি বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে, উঠেছে প্রশ্নও— আসলে কোন ভিত্তিতে হচ্ছে এবারের মনোনয়ন?
রোনালদোর ক্ষোভ: “বিশ্বাসযোগ্যতা নেই”
৪০ বছর বয়সেও সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে দুর্দান্ত খেলে যাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। গোলের ধার, প্রতিযোগিতার ক্ষুধা আর লড়াই করার মানসিকতা তাকে বারবার ফুটবলের শীর্ষে তুলেছে। ক্যারিয়ারে ৫ বার জিতেছেন ব্যালন ডি’অর, আরও ৬ বার শেষ করেছেন রানার্স-আপ হিসেবে— চারবার মেসির পেছনে, একবার মদ্রিচ ও একবার কাকার কাছে।
তবে পুরস্কার নিয়ে তার ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। গত বছর (২০২৪) তিনি খোলাখুলিই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ব্যালন ডি’অর পাননি। সে সময় তার বক্তব্য ছিল স্পষ্ট:
“এর কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। ভিনিসিয়ুসের পাওয়া উচিত ছিল। আমি বহুবার এমনটা অনুভব করেছি, এমনকি রাগও লেগেছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে Sport TV Portugal–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরও কড়া মন্তব্য করেন রোনালদো। জিজ্ঞাসা করা হলে, এ বছরের ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তিনি ঠাণ্ডা গলায় বলেন: “এটা কাল্পনিক।”
তার এই মন্তব্যই আবারও ছড়িয়ে দিয়েছে বিতর্ক— সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারেরই কি তবে বিশ্বাসযোগ্যতা নেই?
মেসি-রোনালদোহীন তালিকা: অন্য যুগের সূচনা
ফুটবল ইতিহাসে মেসি-রোনালদোর অবদান অমলিন। এক যুগেরও বেশি সময় এই দুই তারকার আধিপত্যে কেটেছে বিশ্ব ফুটবল। অথচ এবারের শর্টলিস্টে দুজনের কেউ নেই।
২২ বছরে মাত্র দ্বিতীয়বার এমন হলো— ব্যালন ডি’অরের মনোনয়ন তালিকায় নেই মেসি বা রোনালদো। রোনালদো প্রথম মনোনয়ন পান ২০০৪ সালে, মেসি ঢোকেন ২০০৬ সালে। তারপর থেকে প্রায় প্রতি বছর অন্তত একজন ছিলেন তালিকায়।
নতুন প্রজন্মের উত্থান
এবারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তরুণ তারকারা— লামিন ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, লাওতারো মার্টিনেজ, উসমান ডেম্বেলে প্রমুখ। তারা-ই এখন ফুটবলের বর্তমানকে সংজ্ঞায়িত করছে। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হবে বিজয়ীর নাম।
ব্যালন ডি’অরের এই শর্টলিস্ট প্রমাণ করছে— মেসি-রোনালদোর যুগ পেরিয়ে ফুটবল এখন নতুন প্রজন্মের হাতে। তবে তাদের ছায়া যে সহজে মিলিয়ে যাবে না, তা বোঝা যাচ্ছে রোনালদোর একের পর এক কড়া মন্তব্যে।