বিশ্বকাপের আগে ৩ মাস মাঠের বাইরে বাংলাদেশ

বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের বড় দলগুলো একের পর এক সিরিজ, দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা খেলবে পাকিস্তান ও ভারত সিরিজ, ভারত খেলবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে, ইংল্যান্ড নামবে অ্যাশেজ যুদ্ধে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলবে ভারত-নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। এমনকি পাকিস্তান, আফগানিস্তান আর শ্রীলঙ্কাও করছে ত্রিদেশীয় সিরিজ।
কিন্তু এদিকে বাংলাদেশ?
বিশ্বকাপ শুরুর আগে টানা তিন মাস কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচই নেই টাইগারদের ক্যালেন্ডারে।
অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ ম্যাচের সিরিজ শেষে ডিসেম্বর-জানুয়ারি পুরোপুরি ফাঁকা। পরিকল্পনা একটাই—বিপিএল। অথচ সবাই জানে, বিপিএলের মান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাছাকাছিও নয়। জাতীয় দলের অনেক তারকা খেলোয়াড়ই অংশ নেন না নিয়মিত, যারা খেলেন তারাও ঠিকমতো প্রস্তুতি পান না। ফলে এই টুর্নামেন্ট থেকে বিশ্বকাপের আগে কার্যকর কোনো প্রস্তুতি পাওয়া অসম্ভব।
অন্যদিকে, প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে ম্যাচ খেলছে। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের থাকবে খালি সময়, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে তারা বঞ্চিত হবে।
এ অবস্থাকে বিশ্লেষকরা দেখছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিকল্পনার ভয়াবহ ব্যর্থতা হিসেবে। বিশ্বকাপের আগে যখন প্রতিটি দল প্রতিপক্ষকে পরখ করছে, নিজেদের শক্তি-দুর্বলতা যাচাই করছে, তখন বাংলাদেশ কেবল স্থানীয় লিগের ভরসায় বসে থাকবে—এ যেন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।
তাহলে কী হবে?
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ক্যালেন্ডারে অক্টোবরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর টানা তিন মাস কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ নেই। যদিও এর মধ্যে আয়ারল্যান্ডের সাথে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের কথা চূড়ান্ত হয়েছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি পুরোপুরি ফাঁকা—এমন সময়ে অন্যান্য সব দল বিশ্বকাপের আগে সিরিজ, দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থাকবে।
বিসিবির পরিকল্পনায় আছে শুধু বিপিএল, যার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কাছাকাছিও নয়। ফলে এই প্রস্তুতিহীনতা টাইগারদের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এটা নিছক অব্যবস্থাপনা নয়, বরং ক্রিকেটপাগল দেশটির কোটি ভক্তের প্রতি এক ধরনের দায়সারা মনোভাবও বটে।